রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সমাধান কি?

 

সাইমুম শারিক হিমেল:

বাংলাদেশে আসা ১১ লক্ষ রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে প্রত্যাশিত সমাধানের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না।এতে জনগণ এদেসগের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেংগে যাওয়ার চিন্তায় উদ্দিগ্ন। বিশেষ করে প্রত্যাবাসনের প্রত্যাশায় থাকা উখিয়া- টেকনাফের জনগন সমাধানের মুখ দেখতে না পেয়ে উদ্দিগ্ন হয়ে উঠছে।
কারণ রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো না গেলে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে উখিয়া টেকনাফের জনগণ।
.
অপরাধ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি আমাদের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতেও রোহিঙ্গা সমস্যার বিরুপ প্রভাব ইতিমধ্যে বিদ্যমান।
তাই বাংলাদেশ সরকারকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে হবে।
.
বাংলাদেশ সরকারকে বাংলাদেশ-মায়ানমার দ্বিপাক্ষিয় আলোচনার পাশাপাশি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। আমাদের সাথে মৈত্রি বন্ধনে আবদ্ধ দেশ গুলোর সাথে রোহিঙ্গা ইস্যুর
কারণে অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত সমস্যার বিস্তৃত আলোচনা করে সমাধানের পথে হাটতে হবে।
.
চীন এবং ভারত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে এই ক্ষেত্রে। কারণ এই অঞ্চলে চীন এবং ভারতের শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে। বাংলাদেশের সাথে এই দুই দেশের অর্থনৈতিক এবং কুটনৈতিক সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি। এই মৈত্রী সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সমাধান করতে হবে।
.
বর্তমান থাকা মৈত্রী রাষ্ট্র চীন এবং ভারত বাংলাদেশের এই বড় সমস্যার সমধান দিতে না পারলে অন্যথায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে চাঙ্গা রেখে বাংলাদেশের মেরুদণ্ড শক্ত রাখতে হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত প্রভাবশালী দেশ গুলোর সাথে সমাধানের আলোচনা করতে হবে।
সমাধানের প্রয়োজনে বাংলাদেশের বর্তমান মৈত্রী রাষ্ট্রগুলোর সাথে অর্থনৈতিক এবং কুটনৈতিক সম্পর্ক ভেংেগ প্রভাববিস্তারকারী আমেরিকা, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশ গুলোর সাথেই নতুন করে অর্থনৈতিক এবং কুটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে স্থাপন করতে হবে।
.
বাংলাদেশের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে হলে, বাংলাদেশে স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হলে, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে এবং অরাজকতা-অপরাধপ্রবণতা এড়াতে হলে, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান দ্রুততম উপায়ে না করা ছাড়া উপায় নেই। আর এই দ্রুততম উপায়ের সমাধান হতে হবে যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়িয়ে।
.
উপরিউক্ত লিখাটি আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত। কোন ব্যক্তি কিংবা রাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে, কটুক্তি করে বা ছোট করে এই লিখা নয়। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার দৃষ্টিকোণ থেকে এই লিখার মাধ্যমে তুলে ধরা। এতে দ্বিমত থাকতে পারে।