রফিকুল ইসলাম রাইসুলের কবিতা- বিচরণ

বিচরণ
রফিকুল ইসলাম রাইসুল

খুঁজেছি! অজস্র খুঁজেছি,
খুঁজেছি!অসমাপ্ত বহু ম্লান স্মৃতি।
খুঁজেছি আমি!রুগ্ন দেহের অত্যুষ্ণ ছায়া।
খুঁজেছি!গাঁ’য়ের সবুজ ক্ষেতের অনবদ্য হাতছানি।

খুঁজেছি!জীবনানন্দের সুফলা দৃশ্যপটে ফুটে ওঠা মায়া।
খুঁজেছি!রবী ঠাকুরের শেষের কবিতার অমিতের বেশে লাবণ্যের সর্বোকৃষ্ট জীবনখানী।
খুঁজেছি!আমি খুঁজেছি,
আরাকান রাজ্যে ঘেঁষে ওঠা জাতিসত্তার কবি নূরুল হুদার কাব্যিক ভালোবাসার বাণী।

খুঁজেছি!নির্বাচিত নজরুলের পথহারা কবিতার সন্ধ্যার আহ্বান।
খুঁজেছি!আমি খুঁজেছি,
তারুণ্যের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের আঠারো বছরের সংগ্রাম শক্তি।
খুঁজেছি!আমিই খুঁজেছি,
বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ইতিহাস থেকে কারারুদ্ধ জীবনের সফল মুক্তি।

খুঁজেছি!
শরৎচন্দ্রের লেখিত দেবদাসের একাত্মতা থেকে জীবনের ভালোবাসা।
জ্যোৎন্সা শিশির নিস্তরঙ্গ রাতের নিঃসঙ্গতা খুঁজেছি।
ক্লান্তি চোখের অলস নিদ্রার দীর্ঘতম তিমিরে অন্ধকারের বিপুল খোঁপায় আমেজ খুঁজেছি।

খুঁজেছি!
তোমাদের এই ভালোবাসার জগৎজুড়ে
আমার অন্তরঙ্গতার ঠাঁই।
তবে তোমরা আমাকে তা একটুও দাও নি,
বরং দিয়েছো কল্মষে ব্যথার ছাই।
অবহেলার নিজস্ব এক হৃদয়-ভাঙা গানে,
আমি নির্বাসিত হবো কোন এক নীল-আকাশ পানে।
তোমাদের ভালোবাসার দায়ে আমাকে দিও তোমরা নিদারুণ শাস্তি,
ভালোবাসার বিসর্জনে রেখে গেছি অজস্র স্মৃতি,করবো না কোন কুস্তি।
ক্ষণিক আলোর আলোকে,
তোমাদের আঁখির পলকে,
তোমরা মনে রেখো চিরকাল আমাকে।