বাঁকখালী নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার: হুমকির মুখে জলজ প্রাণী

আবদুল মালেক, রামু:
কক্সবাজার জেলার রামুর বাঁকখালী নদীতে রাতের অাঁধারে চলছে অবাধ মাছ শিকার।

রাতের অন্ধকার নেমে আসতে না আসতেই একদল অসাধু লোক বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগ করে নিরবে নিভৃতে মাছ ধরে চলছে।নদীতে বিষ প্রয়োগের কিছুক্ষণ পর বিষক্রিয়া পানিতে ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র মাছের মড়ক দেখা যায়। তখন ঐ কুচক্রী মহল রাতের অন্ধকারে টর্চ লাইট কিংবা ল্যাম্প দিয়ে ভেসে আসা মাছগুলো ধরে।
রাজারকুল ইউনিয়নের পূর্ব রাজারকুল গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, এই সকল কুচক্রী মহল আজ দীর্ঘদিন যাবৎ রামুর বাঁকখালী নদীর উজানে বিষাক্ত মেল নামক ওষুধ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করে আসছে।এসব লোক সারা রাত যাবৎ নদীর তীর ঘেঁষে বসে থাকে।রাত বাড়ার সাথে সাথে যখন লোকজনের অানাগোনা কমে যায় তখন এ সংঘবদ্ধ চক্র বিষাক্ত মেল প্রয়োগ করে। মেল প্রয়োগ করার কিছুক্ষণ পর ঐ বিষের তীব্রতা চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে মাছ আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে নদীর তীরে আসতে থাকে।তখন তারা জাল,গামছা,কিংবা মশারি বা মাছ ধরার নানা উপকরণ দিয়ে  তীরে ভেসে উঠা মাছগুলো ধরে ফেলে।
স্থানীয় অনেক লোক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাঁকখালী নদীতে বর্তমানে রাতের অন্ধকারে যেভাবে মাছ শিকার করা হচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে রামুর বাঁকখালী নদী মৎস সম্পদ বিহীন হয়ে পড়বে।
তারা দাবি করে বলেন, রামুর বাঁকখালী নদীর মৈশকুম,মনিরঝিল,হাইটুপি,রামুর আতিক্যা বিবির ঘাটের কুম, শিকলঘাটকুম,লম্বরীপাড়া প্রভৃতি এলাকায় রাতের আঁধারে অবৈধভাবে মাছ শিকার করে বেড়াচ্ছে।
গ্রামবাসী জানান,রাতে নদীতে মাছ শিকারের জন্য মেল নামক বিষসহ নানা রকম বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগ করার ফলে মাছ ছাড়াও জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে। এতে মৎস সম্পদ বিলুপ্ত হওয়ার পথে।এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে অচিরেই রামুর বাঁকখালী নদী জলজ সম্পদ বিলুপ্ত হয়ে পরিবেশ মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হবে।পাশাপাশি, এক সময়ের মৎস সম্পদে পরিপূর্ণ বাঁকখালী নদী আজ দিনে দিনে মৎস সম্পদহীন হয়ে পড়ছে।যে বাঁকখালী নদীতে এক সময় বিশাল বিশাল মাছ পাওয়া যেত সেখানে আজ চুনোপুঁটি পাওয়াও দুর্লভ হয়ে পড়েছে।
বিষ প্রয়োগের কারণে ছোট-বড় সব প্রজাতির মাছই মারা যাচ্ছে।এভাবে মাছ নিধন করায় ওই নদীতে মাছের আকাল দেখা দেবে বলেও তাদের অভিমত।
এলাকার সচেতন মহলের দাবী, প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে এই কুচক্রী মহল থেকে রামুর বাঁকখালী নদীকে উদ্ধার করার জোর দাবী জানান।তারা বলেন,রামুর ইউএনও একজন সচেতন ব্যক্তিত্ব।তিনি পরিবেশের বিপর্যয় নিয়ে অনেক অভিযান পরিচালনা করেন।রামুর বাঁকখালী নদীতে রাতে অবৈধভাবে যারা মাছ শিকার করে বেড়াচ্ছে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচার করার জোর দাবী জানান। রামু উপজেলা প্রশাসন,রামু মৎস কর্মকর্তা, রামু থানা ও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে এই অবৈধ মাছ শিকারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার জন্য জোর দাবি জানিয়ে আসছে।
উল্লেখ্য যে,গত বছরও এভাবে যারা রাতের অন্ধকারে মাছ শিকার করছে উপজেলা প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধেও অভিযান পরিচালনা করেছে।

রাজারকুল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মুফিজুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, এ কাজটি যারা করেছে তারা অমানুষ। এভাবে মাছ নিধনের কারণে মাছ শূন্য হবে বাঁকখালী নদী। গত বর্ষা মৌসুমে এভাবে বিষ দিয়ে মাছ নিধন করা হয়েছিলো।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবী চন্দ বাংলানিউজকে জানান, বিষয়টি তিনি দেখবেন।