প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে খরুলিয়ার টমটম চালক নুরুল আমিনের প্রতিবাদ

গত ২৮ জুলাই দৈনিক কক্সবাজার ৭১ পত্রিকা এবং কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেইসবুকে) চেতনা একাত্তরসহ বিভিন্ন ফেইক (ভুয়া) আইডির মাধ্যমে ‘খরুলিয়া সুতারচরের শীর্ষ ইয়াবা কারবারী রোহিঙ্গা নুরুল আমিন অধরা’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে। উল্লেখিত সংবাদদ্বয় সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক। আমি উক্ত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে- আমি একজন খেটে খাওয়া দিনমজুর। বর্তমানে টমটম চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। আমি খরুলিয়া বাজারের বৈশাখী হোটেলের মালিক আব্দুল গফুর ও মুদি দোকানদার সাইফুল। দুজনের কাছ থেকে কিস্তিতে দুটি টমটম নিই, একটি আমি নিজে চালাই অপরটি ভাড়া দিয়েছি। যার প্রথম কিস্তি দিতে বিভিন্ন ব্যংক থেকে ক্ষদ্রঋনও নিয়েছি। ওই গাড়িগুলো রাখার জায়গা না পেয়ে খোলা জায়গায় রাখছি। যার নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ক্যামেরাও লাগিয়েছি।

কয়েকমাস আগে স্থানীয় একটি পক্ষ আর আমার শশুর বাড়ীর লোকজনের সাথে একটি ঘটনার সুত্রপাত হয়। যা প্রশাসনসহ স্থানীয়রা অবগত আছে। এরপর থেকে মূলত ওই বিরোধের জের ধরে এলাকার একটি প্রতিপক্ষ আমার ও আমার শশুরবাড়ীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। ওই প্রতিপক্ষের লোকজন আমার বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি ও নানানভাবে হয়রানি করে আসছে। ওই প্রতিপক্ষ সিসি ক্যামরাগুলো ইয়াবা বিক্রির জন্য লাগিয়েছি বলে অপপ্রচার করে যাচ্ছে।

আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি, আমাকে রোহিঙ্গা ও ইয়াবা ব্যবসায়ী বানিয়ে সংবাদ প্রকাশ করাও ওই প্রতিপক্ষের ইন্ধন রয়েছে। ওই পক্ষ সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য সরবাহ করেছে। শুধু তাই নয়, আমার দাম্পত্য জীবন নিয়েও সংবাদে লেখা হয়েছে যা খুবই দুঃখজনক। তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

সংবাদে উল্লেখ মতে, আমি নাকি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে ইয়াবা পাচার করার জন্য টমটম চালক হয়েছি এবং ইয়াবা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিতে নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে ৫টি নিজস্ব টমটম ব্যবহার করছি। যেখানে আমার নিজের ৫টি টমটম তো কথা একটি টমটমও নিজের নেই সেখানে ৫টি টমটমে করে ইয়াবা পাচারের বিষয়টি হাস্যকর বটে!

তারপরও আমি দৃঢ়তার সাথে বলছি জীবনে কোনদিন ইয়াবা ব্যবসার সাথে আমার কোনো ধরণের সংশ্লিষ্টতা নেই। আমার জন্মস্থান লামা আলীকদমের আমতলী এলাকায়, আমার বাবা-মা পূর্বের রোহিঙ্গা হলেও আমার জন্ম বাংলাদেশে। ঝিলংজার ৯ নং ওয়ার্ডের খরুলিয়া সুতারচর ছুরুত আলমের মেয়েকে বিয়ে করে দীর্ঘ ১ যুগেরও বেশি সময় পার করছি এই এলাকায়।

আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে খুব কষ্ট করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছি। সাংবাদিক ভাইদের কাছে আমার অনুরোধ- আপনারা যাচাই-বাছাই করে সঠিক সংবাদ প্রকাশ করবেন। পরিশেষে আমি আমার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এব্যাপারে প্রশাসনসহ কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করছি।

প্রতিবাদকারী:
নুরুল আমিন (টমটম চালক)
পিতা- আশরাফ আলী, খরুলিয়া সুতারচর, ঝিলংজা কক্সবাজার সদর।