নাগরিক কবি আল মাহমুদ ছিলেন বাংলার আধুনিক কবিতার প্রবাদপুরুষ

আব্দুর রহমান রিটন:

আল মাহমুদ( মীর আব্দুস শুক্কুর আল মাহমুদ ১৯৩৬-২০১৫) বাংলা কবিতায় এক অনিবার্য নাম। প্রবল জীবনযুদ্ধ যাকে থামাতে পারেনি এতটুকু, বিরুদ্ধস্রোত যাকে ভাসিয়ে নিতে পারেনি সামান্যতমও। ছোটখাটো অথচ ঋজু ও ঋদ্ধ এ মানুষটি আজীবন কবিতার কথা বলে গেছেন, আপনভূমি কর্ষণে কর্ষণে রোপণ করে গেছেন অগণিত কবিতার বীজ।

১৯৩৬ সালে ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল নামক গ্রামে এক সম্ভান্ত্র মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি জীবাদশায় কবি, সাংবাদিক আর পত্রিকার সম্পাদকের কাজ করেন। লিখেছেন ছোটদের ছড়া থেকে শুরু করে বয়স্কাদের অভিজ্ঞতাপূর্বক উপন্যাসও। তিনি ছিলেন অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যতের কবি।

তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার নগরকেন্দ্রিক প্রেক্ষাপটে ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং নরনারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহকে তার কবিতায় অবলম্বন করেন। নারী ও প্রেমের বিষয়টি তার কবিতায় ব্যাপকভাবে এসেছে। উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী হিসেবে নারীর যৌনতা, আকাঙ্ক্ষা ও ভোগের লালসাকে তিনি শিল্পের অংশ হিসেবেই দেখিয়েছেন।আধুনিক বাংলা ভাষার প্রচলিত কাঠামোর মধ্যে স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততায় আঞ্চলিক শব্দের প্রয়োগ তার অনন্য কীর্তি।

কাব্যগ্রন্থ লোক লোকান্তর (১৯৬৩) সর্বপ্রথম তাকে স্বনামধন্য কবিদের সারিতে জায়গা করে দেয়। এরপর কালের কলস (১৯৬৬), সোনালি কাবিন (১৯৭৩), মায়াবী পর্দা দুলে উঠো (১৯৭৬) কাব্যগুলো কবিকে অন্যান্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।সোনালী কাবিন কবিকে এনে দেয় তুমুল জনপ্রিয়তা।
“সোনার দিনার নেই/
দেনমোহর চেয়ো না হরিণী/
যদি নাও/
দিতে পারি কাবিনবিহীন হাত দু’টি”।
আধুনিক বাংলা কবিতাকে তিনি সাজিয়েছেন নিজের মত করে। দু’হাত ভরে দিয়েছে বাংলা সাহিত্যকে। তাঁর অসংখ্য সাহিত্য পুরষ্কারের মধ্যে বাংলা একাডেমি পুরষ্কার (১৯৬৮)
ও একুশে পুরস্কার (১৯৮৬) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

পঞ্চাশ দশকের সেরা করি আল মাহমুদের আজ ৮৫তম জন্ম বার্ষিকী।তাঁর জন্মদিনে স্মরণ করছি বিনম্র শ্রদ্ধায়।