তারা মধ্যবৃত্ত

 

রিয়াদ মাহামুদ তানভীর:
মানুষ স্বভাবতই কাল্পনিক জীব।যার কাল্পনিকতায় চারপাশের এই রহস্যময়তাকে সৃষ্টি করেছে সে নিজেই—যার গন্ধ দিন দিন দীর্ঘমেয়াদি হারে বাড়িয়ে দিচ্ছে এই কাল্পনিক কৌতুহলের সমাজ দ্বারা স্বীকৃত মানুষগুলো।এদেরকে সমাজ দ্বারা সভ্যগত করা হয়েছে।
কালের পরিক্রমায় বিভিন্ন মিলন-ঐক্যবদ্ধতার একতায় বা প্রয়োজনীয়তার তাগিদেই এরা সমাজের অন্তর্ভুক্ত হয়ে তার দ্বারা সভ্যগত হয়েছে।
মানুষ তার জীবনের বেশীরভাগ সময়ের ব্যয় করে থাকে মিথ্যা সংশোধনি,ভুল ধারণা ও অনর্থক চর্চা এবং তার একান্ত ব্যক্তিগত জগত কাল্পনিকতায়।

কোন কিছুর ব্যাপারে/বিষয়ে আসলে অভ্যস্ত বা ধারাবাহিক পরিতৃপ্তির দ্বারা-সমাজ কিংবা তার দ্বারা পরিচালিত মানুষের চর্চাশীল কোন বিষয় বা বস্তুর উপর দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা রেওয়াজের ওপর মানুষের যে সুলভ্য অনুশীলনি বা অভ্যাসের চর্চা শুরু হয়ে এক বিরাট সময়কাল ধরে চলতে থাকে- তাই সভ্যতা।
মানুষ সমাজ দ্বারা বাধ্যগত জীব।তারই পরিগণিত জীবনে মানুষের আজকের এই প্রতিষ্ঠিত সমাজের আনুকূল্যতা পেয়ে থাকে।সমাজে বাস করা মানুষদের মধ্যে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠী ধর্ম ও শ্রেণীর সরঞ্জামতা লুকিয়ে থাকে।তার মধ্যে আমার জানা মতে অর্থাৎ আমি যে জগতটাকে জানি কিংবা বুঝি সেটি হলো এই রাষ্ট্রকাঠামোর ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ভিত্তিতে যে সমাজ বা সামাজিক ব্যবস্থাটা আমাদের মধ্যে গভীরভাবে পরিলক্ষিত হয় তা হলো :সমাজে সবচেয়ে বেশি সরঞ্জামতা নিয়ে বহুল প্রকাশিত সংস্থার একটি উল্লেখিত নাম হলো মধ্যবৃত্ত।বাকি যে সবকিছুর উপাদান সমাজের মধ্যে ধারন করে থাকে তার সবকিছুই নগন্যতা পায় এই মধ্যবৃত্তদের কাছে এসে।কিন্তু মধ্যবৃত্তদের কাছে জীবনের বা বেঁচে থাকার আসল মোহের -উন্মাদনাটা একটু বেশী খুঁজে পায় আমরা।মধ্যবৃত্তদের মধ্যে বেঁচে থাকার যে স্বাদ-গন্ধ তা একটু অন্যরকমভাবে বেশীই কাজ করে থাকে।সমাজের অন্যান্য মানুষদের চাইতে একটু বেশী ভিন্নতর ভাবে ভালো থাকতে চাই এঁরা।একটু বেশী স্বাবলম্বী বা মাথা উচু হয়ে দাড়িয়ে সতেজ দৃষ্ঠিতে তাকিয়ে বাঁচতে চাই-আমরা মধ্যবৃত্ত পরিবার।বলতে গেলে বেচে থাকার যে তাগিদ বা অনুভূতি এসবের উপর ভিত্তি করে মধ্যবৃত্তদের জবণীধারণ বা বেঁচে থাকার অন্যান্য শ্রেণীর চাইতে লোভটা একটু তাদের বেশী।জগতের যে বড় হওয়ার ক্ষুধা এটাও তাদের ক্ষেত্রে একটু বেশী।
কিন্তু সমাজ ব্যবস্থাকেও উপর্যুপরি রুপে গতানুগতিক ভাবে গড়ে তুলার ক্ষেত্রেও এই মধ্যবৃত্তদের ভূমিকা একটু বেশিই।কারন তাদের লোভও একটু বেশী।এই বেশী লোভের কারণেই তাদের বিভিন্ন গোষ্ঠী নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতার সহিত মদদ দিয়ে, সমাজের উচু-নিচু বিভিন্ন প্রভাব-প্রতিপত্তিশালীর মাধ্যমে ব্যবহার করে থাকেন ভালো-মন্দ উভয় কাজেই-তাদের ভিতর জমাট বাঁধা লোভটাকে লেলিয়ে দিয়ে।এই লোভের কারণেই মানুষ অস্ত্র হাতে নেয়,লাঠি নিয়ে দল বেধে মানুষ ধাওয়া করে মারার জন্য,বিনা কারণে মানুষ খুন করে – চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে —যার পরিণাম বিশ্বজিৎ ছিলো এক অসহায় কারুণিক উদাহারন। এই লোভের কারণেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টি,এস,সি তে ছাত্রদলের এক অসহায় কর্মীকে তার বোনের সামনে রড় দিয়ে বেধড়ক পিটানো হয়। তাছাড়া সেদিন আরও অনেককে এমন অসহায়ভাবে একা পেয়ে নির্মমভাবে পিঠিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।যার একটাই পরিণাম হতে পারে রাজনৈতিক সিদ্ধি হাসিল।সফলতা অর্জন বিভিন্ন পদ-পদবিতে।যারা এমনসব ঘৃণ্য অপরাধগুলো করে জন-জীবন দাবিয়ে বেড়াচ্ছে তারা সবাই মধ্যবৃত্ত পরিরাবারের কোন না কোন সন্তান।খুঁজ নিয়ে দেখেন এদের এরা কারা।আমার কথাগুলোর নব্বই-শতাংশই মিল পাবেন এদের সম্বন্ধে।

এদের প্রত্যেকেরই আমাদের মতো একটি সুশীল পরিবার রয়েছে।যারা প্রতিনিয়তই আমাদের পরিবারগুলোর মতোই বিশ্বশান্তি ও দেশের সর্বাঙ্গিন মঙ্গল কামনা করে এবং তাদের নিজ নিজ পরিবারের সন্তান – সন্ততি নিয়ে চিন্তা করেন এবং তাদের একটি শঙ্কামুক্ত জীবণ চান বা কামনা করেন।প্রায় প্রত্যেক পরিবারই “নিরাপত্তা ” বিষয়টা নিয়ে ভাবে।আসলে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে দেখা যায় যে,,, মধ্যবৃত্তরাই আজকালকার দিনে সবচাইতে বেশী সন্ত্রাস করে দাবিয়ে বেড়াচ্ছে তার পারষ্পরিক পরিচর্চায়।কিন্তু কথা হলো ঠিক কাদের প্ররোচনায় কাদের প্রলোভিত চিন্তাধারায় মধ্যবৃত্ত পরিবারের সন্তানদের এভাবে লোলুপ দৃষ্টিতে এগিয়ে দেওয়া হচ্ছে সন্ত্রাসের দিকে।কিসের প্রলোভনে সেদিন ছাত্রদলের নিরস্ত্র -অসহায় – নির্জন ছেলেগুলোকে রড-লাঠি এবং ঘাতকের হাত – পায়ের জোরালো শক্তি দ্বারা কম্পিতভাবে দলবেঁধে ছাত্রলীগ সংগঠনের লোকজন পিঠিয়েছিল আর এদেশের সাংবাদিকরা তা নিরব-নির্বিকারভাবে উক্ত দৃশ্যপঠ ধারণ করে।সামান্যতর বিচলতার সহিত প্রাণচঞ্চলতাও তাদের মধ্যে কেউ বিন্দুমাত্রও পরিলক্ষণ করে নাই।যা দেখে আশেপাশের মেয়েদের হৃদয়ও কেঁপে উঠেছিল এবং তাদের মধ্যে সাহায্য-সহযোগিতা করার স্বহৃদয়তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। অথচ সাংবাদিকরা তা এমন ভাবে ধারণ করতেছিল যেন জঙ্গলের মধ্যে অনেকগুলো ক্ষুধার্ত বাঘের কিছু হরিণকে শিকার করা ধারণ করা হচ্ছে আর তা একটু পরে ডিসকভারি চ্যানেলে দেখানো হবে।যাই হউক এবার একটি জাতীয় প্রশ্নে আসা যাক ঠিক কারা সেদিন ঐ একটি ছাত্রসংগঠনকে উসকে দিয়েছিল অন্য একটি ছাত্রসংগঠনের বিরুদ্ধে। যাদের একটাই মাত্র পরিচয় একটাই মাত্র নাম -“তারা মধ্যবৃত্ত”।আর তারা দেশের সবচাইতে বড় বিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্তান। তাদের ছাত্রত্ব বলে তারা একি মায়েরই সন্তান।আজ তারাই রাজনৈতিক বেড়ার স্বার্থে আশ্রয়-প্রশ্রয়ের লোলুপ্ত দৃষ্টিতে তাদের আসল পরিচয়টাই হারিয়ে ফেলতেছে।আজ তারা প্রত্যেকে মিলেই লোভের স্বীকার হয়ে দেশের ঐতিহ্যগত সমাজ ব্যবস্থাটাকে বিঘডে দিচ্ছে।বিলুপ্ত করে দিচ্ছে এদেশের সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত সভ্যতাটাকে। ঠিক কিসের লোভের করা হচ্ছে এদেশে এমনটা–“তা আজ প্রত্যেকেরই জানা”।মনে রাখবেন দস্যু-স্বরুপ মধ্যবৃত্ত ভাইয়েরা আমার,,,, মিছিলে গুলি খেয়ে কিন্তু এমপি-মন্ত্রির ছেলেমেয়ে বা কোন বড় রাজনৈতিক নেতারা মরে না। রাজপথেও তাদের কেউ নির্যাতিত হয় না। এরা আপনার আমার লোভটাকে স্বীকার করে অচিরেই।

লেখক:
সদস্য, ছাত্রদল, কুতুবদিয়া উপজেলা শাখা।