করোনা সংকটে বিএনপি জনগণের পাশে আছে: মির্জা আলমগীর

ঢাকা: করোনা মহামারিতে বিএনপি জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে বলে জানিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্দেশে দরিদ্র দুস্থ মানুষকে ত্রাণ দিয়ে যাচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মী। এ পর্যন্ত ২ কোটি মানুষকে ত্রাণ দিয়েছি। আমাদের নেতাকর্মীরা যে কাজ করছে তাতে বলছি যে আমরা মানুষের কাছে আছি, তাদের পাশে আছি।

সোমবার, জুন ২২, ২০২০ দুপুরে ডক্টর এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশে (ড্যাব) এর ‘হোম হেল্থ সার্ভিস’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। নিজ বাসা থেকে ভিডিও কনফারেন্স যুক্ত হোন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যে একদম ভঙ্গুর অবস্থায় এসে ঠেকেছে করোনা পরিস্থিতিতে এ রকম একটি সত্য উদঘাটন হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অক্সিজেন খুব গুরুত্বপূর্ণ সেটা আগে থেকেই বলা হয়েছে এবং দ্রুত তা সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন অক্সিজেন নেই এবং সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।

মির্জা আলমগীর বলেন, করোনায় বাংলাদেশ সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। চীনে যখন ভাইরাসটি ধরা পড়েছে তখন এই সরকার এটাকে গুরুত্ব দেয়নি। কারণ তখন তারা একটি শতবর্ষ অনুষ্ঠান পালন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এটা শুরু হওয়ার তিন মাস পরে তাদের টনক নড়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের চিকিৎসকরা বারবার বলেছেন ভাইরাসটি শুরুর দিকে বাহির থেকে আসা প্রবাসীদের এয়ারপোর্টে টেস্টের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেয়া হতো তাহলে আজকে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। কিন্তু তারা এটা করবে কীভাবে? তাদের তো জনগণের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই এবং কোনো সক্ষমতা নেই। তারা তো বিনা ভোটের সরকার।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার আক্রান্তের ব্যাপারে সঠিক তথ্য দিচ্ছে না। তাই মানুষের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থা নেই।

তিনি বলেন, সরকার পর্যাপ্ত পরীক্ষা করতে পারছে না এবং পর্যাপ্ত পরীক্ষা করার মত সক্ষমতা এই সরকারের নেই। যে পরিমাণ পরীক্ষা এখনো পর্যন্ত করা হচ্ছে তার মধ্যে শতকরা ২৩ শতাংশ আক্রান্ত। অর্থাৎ ১০০ জনের মধ্যে ২৩ জন আক্রান্ত।

তিনি আরও বলেন, আজকে করোনায় সবচেয়ে বড় যে সত্যতা উদঘাটন হয়েছে সেটা হলো আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভঙ্গুর হয়ে গিয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা শুরু থেকেই এই সমস্যা সমাধানে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ার আহ্বান জানিয়ে ছিলাম। তবে এই সরকার আমাদের এ আহবানের গুরুত্ব বুঝতে পারেনি। তারা আমাদের সব প্রস্তাবনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের মত সকল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা শুরুর দিকে যখন ত্রাণ দিয়েছেন তখন দেখেছি একটা চুরির মহোৎসব সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি খাটের নিচে ও তেলের খনি বানাতে দেখেছি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি আপৎকালীন বাজেট দরকার ছিল। আমরা ভেবেছিলাম সরকার এবার একটি আপৎকালীন বাজেট দিবে। যার মাধ্যমে মানুষ প্রাণে বাঁচতে পারবে। কিন্তু সরকার সেটা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোভিড-১৯ যোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।