উখিয়ায় কবরস্থানে লাশ দাফনে বাঁধা: মুসল্লীদের ক্ষোভ

 

কক্সবাজার টুডে রিপোর্ট:
উখিয়ার পশ্চিম হলুদিয়া পালং জাম বাগান নামক কবরস্থানে মৃত ব্যক্তি নুরুল আমিনের লাশ দাফনের বাধাপ্রদান ও খননকৃত কবর মাটি দিয়ে বরাট করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে চরম ক্ষোভ সহ মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।এ ব্যাপারে মংগলবার এলাকাবাসী গণ স্বাক্ষর করে এক লিখিত অভিযোগ অভিযুক্ত আবদুল আলী ও আকতারের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা গ্রহন করার জন্য উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট প্রদান করেছেন বলে জানা গেছে।
উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জাম বাগান গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা নুরুল আমিন (৫৫) গত রবিবার রাতে হৃদ ক্রিয়া বন্ধ হইয়া মারা যান।ইন্না,, রাউজেন। পরের দিন সোমবার সকাল ১০ টায় নামাজের জানাজা শেষে দাফন করার জন্য ওই গ্রামের একমাত্র কবরস্থান কবর খনন করা হয়।মারা যাওয়া ব্যক্তির স্ত্রী রমিদা আক্তার প্রকাশ বেগমজান অভিযোগ করে বলেন ওই গ্রামের লোকমানের পুত্র আব্দুল আলী ও আক্তার নামক দুই ব্যক্তি কবরস্থান কে নিজেদের মালিকানা দাবি করে আমার স্বামীর লাশ দাফন করতে মোটা অংকের সাদা দাবি করে। অন্যথায় দাফন করা যাবে না বলে বাধা প্রদান করে। এদিকে বিষয়টি গ্রামবাসীরা স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শামসুল আলম কে অভিহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিক ভাবে কবরস্থানে আসেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মেম্বার শামসুল আলম সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। আমি এ অমানবিক ঘটনাটি শুনার সাথে সাথেই কবরস্থানে গিয়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ভরাটকৃত কবর পুনরায় খনন করে দুপুর সাড়ে ১২ টায় নামাজের জানাজা আদায় করার ব্যবস্হা করি এবং মরহুমের দাফন সম্পন্ন করা হয়।জানাজায় ইমামতি করেন মৌলানা ক্কারি সিব্বির আহমদ।
কবরস্থানে কবর খনন করতে আসা বাবুল মিয়া, আলী আকবর ও মীর আহমদ জানান সকাল ১০টায় জানাজা হওয়ার কথা ছিল তাই আমরা সকালেই সবাই মিলে খবর খনন করতে থাকি। ওই সময় পশ্চিম হলদিয়া জাম বাগান গ্রামের আব্দুল আলী ও আক্তার কবরস্থানে এসে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে হুমকি দিয়ে বলেন এখানে কোন দাফন করতে দেওয়া হবে না মর্মে আমাদেরকে চলে যাওয়ার জন্য হুংকার দিলে আমরা নিরুপায় হয়ে চলে যাই। এলাকাবাসী হারুন সিকদার ও মোহাম্মদ হারুন জানান, জাম বাগান কবরস্হানটি অতি পুরাতন। কি ক্ষমতা ও কার দাপটে তারা নতুন খননকৃত কবর মাটি দিয়ে ভরাট করে দিল এ ঘটনা সর্বমহলে প্রচন্ড ক্ষোভ সহ উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে ৪ বছর পূর্বে মারা যাওয়া নুরুল আমিন স্ব পরিবার নিয়ে জাম বাগান গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। তিনি ওই এলাকার সমাজের সদস্য এবং ৪ ছেলে-মেয়ের জনক। ইতিমধ্যে একমেয়ে বিবাহ দিয়েছেন। পেশায় তিনি একজন সিএনজি চালক এবং মহেশখালী উপজেলার বাসিন্দা। স্ত্রী বেগমজান অভিযোগ করে বলেন আব্দুল আলি ও আক্তার দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের হয়রানিসহ হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিল এমনকি জায়গায় ক্রয় করে ঘর তৈরি করার সময় তাকে মোটা অংকের চাঁদাও দিতে হয়েছিল। বর্তমান তারা আমার বাড়ি ঘর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।
সমাজের সর্দার সহ ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা এধরনের অন্যায় ও সমাজ বিরোধী কর্মকান্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।